
মোঃ . শাহারিয়া রেজা জিসাদ নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান), প্রতিনিধি:
স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের করলিয়া মুরা, হলুদিয়া শিয়া এবং লম্বাবিল এলাকায়। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—একটি স্থায়ী সেতু ও পাকা সড়ক—আজও পূরণ হয়নি।
এই অঞ্চলের প্রধান জনপথে রয়েছে একটি খাল, যার ওপর নেই কোনো পাকা সেতু। বাধ্য হয়ে মানুষজন বাঁশের তৈরি একটি অস্থায়ী সাঁকো ব্যবহার করে, যা প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। শিশু, বৃদ্ধ, নারী, কৃষক, শিক্ষার্থী—সবারই এ দুঃসহ দুর্দশা।
প্রায় ৩০ বছর আগে সাঁকো থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জব্বার সাহেবের ছেলের। এরকম অসংখ্য দুঘটনা ঘটেছে বছরের পর বছর। বিশেষ করে বর্ষাকালে সাঁকো বারবার ভেঙে যায় এবং প্রতিবার নতুন করে নির্মাণ করতে হয়। এতে করে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ বাড়ে, অন্যদিকে কৃষিজ পণ্য পরিবহনও হয়ে পড়ে অসম্ভব।
সড়ক ও সেতুর অভাবে ফসল মাঠেই নষ্ট হয়ে যায়, গরু-মহিষ-ছাগল পার করা যায় না, রোগীদের নেওয়া যায় না স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। আত্মীয়-স্বজনেরাও এই অঞ্চল পরিহার করে চলেন। বিকল্প যে কাঁচা রাস্তা রয়েছে, সেটিও বহুদিন সংস্কার না হওয়ায় এখন চলাচলের অনুপযোগী। বিশেষ করে বর্ষাকালে অবস্থা ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ—অনেক আগেই এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব হয়েছিল, কিন্তু মাত্র ১০ হাজার টাকার অজুহাতে সেটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনা প্রশাসনিক অবহেলারই জ্বলন্ত প্রমাণ।
অতএব, এখনই সময় সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের। তারা যদি এগিয়ে এসে এই খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ এবং মাষ্টার মীম সালেহ আহমদ সাহেবের বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে ঈদগড় হাড়ির মাথা পর্যন্ত একটি পাকা রাস্তা তৈরি করেন, তবে পুরো বাইশারী অঞ্চলের দৃশ্যপটই বদলে যাবে।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি—“আমরা চাই সেতু ও সড়ক, নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা।”
মন্তব্য করুন