
আলী আজম, পেকুয়া, কক্সবাজার
কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের বকশিয়া ঘোনা একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় জনপদ। এই অঞ্চল বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেল, বাঁশখালী (ছনুয়া) নদী ও মগনামা (ভোলা খাল) নদীর মোহনার সংযোগস্থলে অবস্থিত। এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও বসতভিটা অনেকাংশেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের উপর নির্ভরশীল।
২০২৪ সালে বেড়িবাঁধের মাটি ভরাট কাজ শেষ হলেও এই প্রকল্পের আওতায় পুরো কাজ অদ্যাবদি সমাপ্ত হয় নাই। অর্থাৎ রাজাখালীর বকশিয়াঘোনা বেড়িবাঁধ এলাকায় এখনও পর্যন্ত ব্লক বসানোর কাজ শুরু হয়নি। যেখানে পাশ্ববর্তী বাঁশখালী ও মগনামা এলাকায় একই প্রকল্পের আওতায় কাজ সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে আমাদের রাজাখালী ইউনিয়ন এখনো অবহেলিত। প্রশ্ন থেকে যায়—পাশের এলাকাগুলোতে কাজ হলো, আর রাজাখালী এলাকায় কেন হলো না?
এই কাজের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে কারা? কার স্বার্থে বারবার রাজাখালীর মতো দুর্বল ও ভাঙনপ্রবণ এলাকাকে অবহেলা করা হচ্ছে? উপকূলবাসী এ প্রশ্নের জবাব চায়???
নদী ভাঙনের প্রভাবে ইতোঃমধ্যে বকশিয়া ঘোনা এলাকার অনেক মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। সামনে বর্ষা মৌসুম, নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের সময়কাল। বেড়িবাঁধ না থাকলে এ বছর জলোচ্ছ্বাসের পানি সরাসরি স্থলভাগে প্রবেশ করবে—ডুবে যাবে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা। সবচেয়ে বড় কথা—মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়বে। এই অবস্থা চলতে থাকলে এতদঞ্চলের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি নিরাপদ রাজাখালী পাবে না।
উপকূলবাসীর প্রাণের দাবী স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি সুবিবেচনা পূর্বক দ্রুত বাকি কাজ সম্পন্ন করে এলাকার দূর্দশা লাগবে সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন এমনটি প্রত্যাশা করেছেন উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন