
তৌহিদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি
কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের বকশিয়া ঘোনা একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় জনপদ। এই অঞ্চল বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেল, বাঁশখালী (ছনুয়া) নদী ও মগনামা (ভোলা খাল) নদীর মোহনার সংযোগস্থলে অবস্থিত। এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও বসতভিটা অনেকাংশেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের উপর নির্ভরশীল।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, রাজাখালীর বকশিয়াঘোনা বেড়িবাঁধ এলাকায় এখনও পর্যন্ত ব্লক বসানোর কাজ শুরু হয়নি। যেখানে পাশ্ববর্তী বাঁশখালী ও মগনামা এলাকায় একই প্রকল্পের আওতায় কাজ সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে আমাদের রাজাখালী ইউনিয়ন এখনো অবহেলিত। প্রশ্ন থেকে যায়—পাশের এলাকাগুলোতে কাজ হলো, আর আমাদের এলাকায় কেন হলো না?
এই কাজের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে কারা? কার স্বার্থে বারবার রাজাখালীর মতো দুর্বল ও ভাঙনপ্রবণ এলাকাকে অবহেলা করা হচ্ছে? আমরা উপকূলবাসী এ প্রশ্নের জবাব চাই।
নদীভাঙনের প্রভাবে ইতিমধ্যেই বকশিয়া ঘোনা এলাকার অনেক মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। সামনে বর্ষা মৌসুম, নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের সময়কাল। বেড়িবাঁধ না থাকলে এ বছর জলোচ্ছ্বাসের পানি সরাসরি স্থলভাগে প্রবেশ করবে—ডুবে যাবে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা। সবচেয়ে বড় কথা—মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়বে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি নিরাপদ রাজাখালী পাবে না।
আমরা উপকূলবাসীর পক্ষ থেকে সাংবাদিক ভাইদের আন্তরিক অনুরোধ করছি—এই দুরবস্থার কথা আপনারা তুলে ধরুন গণমাধ্যমে, যাতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। আপনারা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কলম ধরেন বলেই আমরা আজও আশায় বাঁচি।
একইসাথে, আমরা কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও পেকুয়া উপজেলা প্রশাসনের কাছে দৃঢ়ভাবে অনুরোধ করছি—দয়া করে আমাদের দিকে একটু তাকান। রাজাখালীর ও বকশিয়াঘোনা মানুষের বুকভরা আকুতি আপনারা শুনুন। আমার এলাকা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ব্লক বসানোর ব্যবস্থা নিন। এক টুকরো বেড়িবাঁধ মানে শুধু কিছু কংক্রিট নয়—এটি আমাদের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের প্রতীক।
রাজাখালীর বকশিয়াঘোনা চ্যানেলে সামান্য অংশে যদি দ্রুত ব্লক বসানো হয়, তাহলে নিশ্চিতভাবে এই ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। তাই আমাদের প্রাণের দাবি—রাজাখালী বকশিয়াঘোনায় বেড়িবাঁধের কাজ দ্রুত শুরু করুন, উপকূল রক্ষা করুন, মানুষকে বাঁচান।
মন্তব্য করুন